বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতগামী পার্সপোট যাত্রীরা ফয়জুল চক্রের হাতে জিম্মি

ভারতগামী পার্সপোট যাত্রীরা ফয়জুল চক্রের হাতে জিম্মি প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা

ফারুক হাসান (বেনাপোল প্রতিনিধি): যশোরের বেনাপোল দেশের বৃহত্তর স্থল বন্দর। এ বন্দর দিয়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে যাতায়াতে সুযোগ সুবিধা বেশি হওয়ায় দেশের সিংহ ভাগ পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারত ভ্রমনে বা যে কোন প্রয়োজনীয় কাজে জন্য এই বন্দরকে বেশী ব্যবহার করে থাকে।হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে যে কোন সমায়ের চেয়ে মানুষ এবন্দর দিয়ে বর্তমান বেশি ভারতে যাচ্ছে। আর একারনে ভারতমুখী জনস্রোত বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনের গন্ডি পেরিয়ে যশোর বেনাপোল মহাসড়কে এসে ঠেকেছে। পার্সপোট যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে।ঘন্টার পর ঘন্টা পার্সপোট যাত্রীরা রোদ বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।দেড় থেকে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ।এসময় অনেক পার্সপোট যাত্রীদেরকে অসুস্থ্য হতে দেখা গেছে।

ভারত ভ্রমন পিপাসু মানুষের সরব উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বেনাপোল বন্দরের সহকারী প্রোগ্রামার ফয়জুল হকের নেতৃর্ত্বে একটি চক্র প্রতিদিন সাধারন পার্সপোট যাত্রীদের কাজ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই চক্র সাধারন পার্সপোট যাত্রীদের আগে কাস্টমস ও ইমিগ্রেমনের কাজ করে দেওয়ার শর্তে পাসপোট যাত্রী প্রতি ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে ৫/৬ হাজার পার্সপোট যাত্রী ভারতে যায়। বর্তমানে ভারতগামী পার্সপোট যাত্রীদের সংখ্যা দঁয়েছে প্রায় ৯ হাজারে।

শুক্রবার ও শনিবার বেনাপোল চেকপোষ্ট প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে গিয়ে দেখা যায় শত শত লোক লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে । আর বন্দর কর্মকর্তা ফয়জুল ইসলাম ৫/৬ জনের একটি দল নিয়ে লাইনের আগে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এর বিনিময়ে প্রতি পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে আমি বন্দরের কর্মকর্তা বলে হুমকি দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কুলি বলেন, ফয়জুল স্যার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে প্রতিদিন শতশত পাসপোট যাত্রীকে সিরিয়াল না মেনে ৫০০ টাকার বিনিময়ে আগে পার করে দেয়। বন্দরের চেয়ারম্যান নাকি তার আত্মীয়। তাই কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করেনা।

পাসপোর্ট যাত্রী রমেশ কুমার বলেন, প্রায় দুই ঘন্টা একটানা দাঁড়িয়ে আছি জানিনা আর কত সময় এভাবে দাড়িয়ে থাকতে হবে।অনেকে লাইন বাদে চলে যাচ্ছে।সাদা পোষাকে একজন ৫০০ টাকা করে নিয়ে আগে পার করে দিচ্ছে তিনি নাকি বন্দরের বড় অফিসার।

স্থানীয়রা জানায়,প্রথমে টার্মিনাল ভবনের নীচতলা যাত্রীদের জন্য রাখলেও এখন তার অর্ধেকের বেশী আটকিয়ে দিয়ে কাস্টমসের স্কানিং মেশিন বসানো হয়েছে। যার কারনে ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও মহা সড়কে পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাড়াতে বাধ্য হচ্ছে পাসপোর্ট যাত্রীরা।

বন্দর কর্তা ফয়জুল ইসলামের দূনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি পরিচালক মামুনুর রহমান জানান, টাকার বিনিময়ে নিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীকে আগে পার করে দেওয়া দূঃখ জনক। তবে এ ব্যাপারে কোন যাত্রী অভিযোগ দেইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Comment